কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ

আসসালামু আলাইকুম, আজ আমরা আলোচনা করব কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সম্পর্কে। ইসলামী অর্থব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হচ্ছে যাকাত। ঈমান আনা ও নামাজ আদায় করার পর নিয়মিত জাকাত আদায় করায় একজন বিত্তবান ব্যক্তি মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য হন। যাকাত সম্পর্কে অনেকের মধ্যে অনেক প্রশ্ন থাকে। অনেকে আবার প্রশ্ন করে থাকেন কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ? এ সম্পর্কে জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পদের যাকাত দেওয়ার নিয়ম ও কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ। 

যাকাত দেওয়ার মাসায়ালা – কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ

নিচে যাকাত সংক্রান্ত কিছু মাসালা উল্লেখ করা হচ্ছে। কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। 

মাসয়ালা: ১

প্রাপ্তবয়স্ক এবং বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন একজন মুসলমানের (নারী-পুরুষ) মালের উপর কিছু শর্তসাপেক্ষে যাকাতকে ফরজ করা হয়েছে। যেসব শর্তগুলো থাকলে ওই ব্যক্তির মানের উপর যাকাত ধার্য করা হবে তা নিচে দেওয়া হল;

  • মালের উপর পূর্ণ একটি (চান্দ্র) বছর তার পূর্ণ মালিকানা বিদ্যমান থাকতে হবে। 
  • যাকাত ধার্য হতে পারে এমন প্রকৃতির মাল হতে হবে।
  • নিসাব পরিমাণ সম্পদ অথবা নিসাবের মূল্যের সমপরিমাণ।
  • ওই হিসাব পরিমান সম্পদ তার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকতে হবে।

মালিকানা বলতে বোঝানো হয়, “কোন বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যকার শরীয়ত সম্মত যোগ সূত্র কে বোঝায়। যেটা ব্যক্তিকে ওই বস্তু নিঃশর্তভাবে হোক ব্যবহারের অধিকার দিয়ে থাকে এবং অপর লোকের হস্তক্ষেপে বাধা দেয়।”

নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক পণ্য সামগ্রী, পালিত পশু ও কৃষি সম্পন্ন ইত্যাদির উপরে যাকাত ফরজ হয়ে থাকে। ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি সম্পত্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার করার জিনিস ও ঘরবাড়ি ইত্যাদির উপর যাকাত ফরজ হয় না। 

কৃষিজ পণ্য, ফলমূল ইত্যাদি ক্ষেত্রে পূর্ণ এক বছর মালিকের অধীনে বা দখলে থাকার প্রয়োজন নেই। যখনই তা আহরিত হয়ে থাকে কখন থেকেই উক্ত সম্পদের উপর যাকাত (উশর) ধার্য করা হয়।  কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। 

Read More  মেয়েদের ইসলামিক নাম বাংলা অর্থসহ | ৫৫০+ মেয়েদের ইসলামিক নাম

সম্পর্কে ৪০ ভাগ করে তার এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। এই হিসেবে অতিরিক্ত মালের উপরও যাকাত ফরজ হয়ে যায়। কেউ চাইলে যাকাত নগদ অর্থ দিয়ে পরিচয় করতে পারে অথবা সংশ্লিষ্ট মাল দিয়েও তা পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে। (কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ)

মাসয়ালা: ২

স্বর্ণ রুপা ও নগদ টাকা হিসাব পরিমাণ হওয়ার পর সেটা নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ হতে যে অতিরিক্ত সম্পদ থাকে তার ওপর যাকাত ফরজ হয়ে যায় মৌলিক শর্ত অনুযায়ী। সুতরাং মালিকানাধীন জমি, বসবাসের বাড়ি ও চলাফেরার বাহন গাড়ি ইত্যাদির উপরে যাকাত ফরজ বা ওয়াজিব হয় না। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ছাড়ার কয়টি তো জমির উপরে যাকাত ওয়াজিব নয়। -(আদ্দুররুল মুখতার: ২/৩০৩)

মাসয়ালা: ৩

আর সোনা বা রুপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোন একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয়ে থাকে কিন্তু প্রয়োজন থেকে অতিরিক্ত বা একাধিক বস্তু মিলিয়ে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্য হয় তবে সেটির উপর যাকাত দেওয়া ফরজ। যেমন কারো নিকট যদি কিছু স্বর্ণ ও কিছু টাকা থাকে যেটি স্বল্পমঠ সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্যের সমান হয়ে থাকে তবে সেটির উপরও যাকাত দেওয়া ফরজ হবে। -রদ্দুল মুহতার : ৫/২১৯ (কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ)

মাসায়ালা: ৪

ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী নগদ টাকার উপরে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য রুপার পাইকারি ক্রয়মূল্য ধর্তব্য নয়। বরং তার খুচরা বিক্রয়মূল্য অর্থাৎ বাজার দর হিসাব অনুযায়ী ৫২.৫ তোলা রুপার যেই পরিমাণ টাকা বা মূল্য আসে ওই পরিমাণ টাকা থাকলে যাকাত দেওয়া ওয়াজিব হবে। -ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৮০

মাসায়ালা: ৫

স্বর্ণের ব্যবহৃত খাদ স্বর্ণের তুলনায় কম হয়ে থাকলে খাদ স্বর্ণের হিসাবে চলে যায় এবং ভাগ ও স্বর্ণ একত্রে হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৩০০

Read More  S - স দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম এর তালিকা 2021

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। 

মাসায়ালা: ৬

যদি কেউ ব্যবসার নিয়্যতে জমি ক্রয় করে থাকে, তাহলে প্রত্যেক বছর তার বাজার মূল্য হিসেবে যাকাত আদায় করতে হবে। অন্যথায় যাকাত আসবে না। -বাদায়েউস সানায়ে:২/২০

মাসায়ালা: ৭

খালি জমিতে রোকণকৃত গাছের কোন যাকাত দিতে হবে কিনা? হ্যাঁ দিতে হবে, বিক্রির পর তার মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে অথবা সেই মূল্য অন্য অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ হলে যাকাত আদায় করতে হবে। -তাবঈনুল হাকায়েক: ১/২৯১

মাসায়ালা: ৮

নিজের খরচ ও পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে দোকানের মালামাল ও ব্যবসায়িক পণ্য এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হয়ে থাকলে বছর আনতে যাকাত আদায় করা ফরজ হবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/২০

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। 

মাসায়ালা: ৯

কারখানার বা ফ্যাক্টরির মালিকের উপর মেশিন ও বিল্ডিং এর মূল্যের যাকাত দিতে হবে না। এছাড়া উপাদান, কাঁচামাল ও যে সকল মাল বাকিতে বিক্রয় করা হয়েছে তার মূল্য উসুল করাও সম্ভব এমন কিছুর সমস্যা হিসাব পরিমান হয়ে থাকলে সেটির উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। -আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৬৭, ফাতাওয়ায়ে উসমানি: ২/৩৯

মাসায়ালা: ১০

নিজের ব্যবহৃত গাড়ি কিংবা ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা গাড়ির মূল্যের উপর যাকাত আসবেনা। কিন্তু এর মাধ্যমে উপার্জিত ভাড়া কিংবা উপার্জন করার টাকা যাকাতের মূল হিসাবে সাথে যোগ করতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/২৬৫ (কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ)

মাসায়ালা: ১১

ভাড়া দেওয়া বাড়ি কিংবা মার্কেটের মূল্যের উপরে কোন যাকাত আসবে না। কিন্তু ভাড়া দেওয়া বাড়ি কিংবা মার্কেটের থেকে অর্জিত ভাড়া যদি হিসাব পরিমান হয়ে থাকে তাহলে বছরান্তে যাকাত দিতে হবে। -ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৮০

মাসায়ালা: ১২

কোন সমিতি ও ব্যাংকে জমাকৃত টাকা নিশাত পরিমাণ হয়ে থাকলে বছরান্তে যাকাত দেওয়া ওয়াজিব হবে। সুদি ব্যাংকে জমাকৃত টাকার প্রাপ্ত সুদ সওয়াবের নিয়ত ব্যতীত সদকা (দান) করে দেওয়া ওয়াজিব। সুদের টাকার উপরে কখনো যাকাত ফরজ হয় না। -রদ্দুল মুহতার: ২/২৬৭

Read More  শ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের তালিকা 2021

যাকাত না দেওয়ার কঠিন শাস্তি

ইসলামের স্তম্ভ রয়েছে পাঁচটি যার অন্যতম একটি যাকাত। যাকাত প্রার্থীর জীবনে যেমন দারিদ্র বিমোচনের সহযোগিতা করে থাকে ঠিক তেমনি পরকালে কঠিন দিনে যাকাত স্বস্তি দেয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন, “তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত দাও, তোমরা নিজেদের জন্য যেসব ভালো কাজ আগেই পাঠাবে তা আল্লাহর কাছে পাবে, তোমরা যা কর আল্লাহ তার দ্রষ্টা।” (সূরা বাকারা : আয়াত নম্বর 110)

সঠিক নিয়ম মেনে যাকাত আদায় বিত্তবানদের অন্তর পরিশুদ্ধ করে থাকে এবং তাদের সম্পদকেকরে পবিত্র। এজন্য এটিকে কোরআনের সাফল্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, “অবশ্যই মুমিনেরা সফল। যারা নামাজে বিনম্র থাকে, অনর্থক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে, যারা যাকাত আদায় করে এবং নিজের লজ্জাস্থান কে সংযত রাখে।” (সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১-৫)

সর্বশেষ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সম্পর্কে। একজন মুসলমান হিসেবে কখন আমার উপর যাকাত ওয়াজিব হয়েছে এবং কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে জানা না থাকলে, আজকের আর্টিকেল থেকে জেনে নিন। আশা করি, আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে যাকাত সম্পর্কে অনেক মাসায়ালা জানতে পারবেন। আর্টিকেলে কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানান হয়েছে। এমন ইসলামিক  আরও আর্টিকেল পড়তে এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানতে বেশি বেশি আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ধন্যবাদ। 

Leave a Comment