ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল

আসসালামু আলাইকুম। আজ আমরা আলোচনা করব ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সম্পর্কে। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  সারাদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষে কিছু দোয়া রয়েছে। যে ব্যক্তি এই দোয়াগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় সে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। (সহীহ মুসলিম, ১২৩৭) আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ তার প্রতিটি কাজ আমাদের জন্য সুন্নাহ  এবং নাজাতের মাধ্যম। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সমূহ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা।  তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি উপকারে আসবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সমূহ। 

ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পরে নবীজির দেখানো কিছু আমল রয়েছে।  বিভিন্ন জিকির আজগার ও দোয়া এই সময়গুলোতে পড়তে হয়।  নবীজির দেখানো নিয়ম অনুযায়ী আমল করলে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারব।  মুসলমানের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। আর এই ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল গুলো চর্চা করতে পারেন।  নিচে ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সমূহ দেওয়া হল;

  1. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ নামাজের পর-  আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন (৩ বার) [মুসলিম-১২২২]
  2. এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন, “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লি ওয়াল ইকরাম” [মুসলিম-১২২১]
  3. সুবাহা-নাল্লাহ (৩৩বার),  আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার), আল্লাহু আকবার (৩৩ বার),

এই জিকির গুলো পাঠ করলে গুনাহসমূহ সমুদ্রের ভেনারসের মতো অসংখ্য হয়ে থাকলেও আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা করে দিন।(মুসলিম-১২৪০)

  1. আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: আয়াত ২৫৫) [একবার পড়া] ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন দুরত্ব থাকে না। (নাসাঈ)
  2.  আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার (৭ বার), ফজর ও মাগরিবের পরে এই দোয়াটি পড়া।  এই দোয়া পাঠ করা ব্যক্তি সেই দিন বা সেই রাতে যদি মারা যায় তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। 
  3.  সূরা ইখলাস,  সূরা ফালাক ও সূরা নাস (প্রতিটি সূরা তিনবার করে ফরজ ও মাগরিবের পরে পাঠ করা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন,  সকাল- সন্ধ্যায় এই সূরাগুলো যে পাঠ করবে তার আর কিছুরই দরকার হবে না। 
  4. দরুদ শরীফ ১০ বার,  ফজর ও মাগরিবের পরে পড়া। এই আমলটি নিয়মিত করলে,  কেয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর শাফায়াত লাভ করবে। 
  5. রাদ্বীতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা (৩ বার)  এই দোয়াটি ফজর ও মাগরিবের পর পাঠ করতে হবে।  এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তার হাত ধরে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন  এবং এই আমলকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট করবেন। 
  6.  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার পড়বে,  তার পাপ সমূহ মুছে ফেলা হয়। যদিও তার সাগরের ফেনা রাশির সমান হয়। [বুখারি ৭/১৬৮, নং-৬৪০৫; মুসলিম ৪/২০৭১, নং-২৬৯১]
  7. হযরত আব্দুর রহমান বিন গানম (রা.) হতে বর্ণিত রয়েছে যে,  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের নামাজ শেষে নামাজ থেকে ফিরে বসা ও পা মুড়ার পূর্বে (অর্থাৎ যেভাবে বসে নামাজ শেষ করেছে ঠিক সেই ভাবে বসে থেকেই এদিক ওদিকের ঘোড়া বা অন্যরকম করে বসার আগে) এই দোয়াটি দশবার পাঠ করবে,
Read More  নবীর স্ত্রীদের নাম | নবীজির স্ত্রী কেন ১১ জন

আল্লাহ তাআলা তার আমলনামায় প্রত্যেকবারই বিনিময় দশটি নেকি লিপিবদ্ধ করবেন।  দশটি গোলা মোচন করবেন এবং দশটি মর্যাদায়  উন্নীত করবেন।  প্রত্যেক অপ্রীতিকর বিষয় এবং শয়তান হতে (উক্ত জিকির) রক্ষামন্ত্র হয়। নিশ্চিত ভাবে ওই ব্যক্তির শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে আর সে আমল করার দিক দিয়ে  সবথেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কিন্তু ওই ব্যক্তি তার চাইতেও শ্রেষ্ঠ হতে পারে যে কিনা তার থেকেও উত্তম জিকির পাঠ করবে। (আহমাদ, সহিহ তারগীব-হাদিস ৪৭২)

  1.  ফরজ নামাজের পর “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান না-ফিআ, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়িবা, ওয়া আমালান মুতাক্বাব্বালা” (১ বার)। 

অর্থ-  হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তোমার নিকট ফলদায়ক শিক্ষা,  হালাল জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছে।  ফজরের নামাজের পর এই দোয়াটি পাঠ করবে। ( ইবনে মাজাহ, সুনান ১/১৫২, ত্বাবারানী সাগীর, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১১১) 

আসরের নামাজের পর আমল

ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সমূহ জানার পাশাপাশি আসরের নামাজের পর আমল জেনে নেওয়া যাক।  আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  দিন সমূহের মধ্যে জুম্মা দিন হচ্ছে শ্রেষ্ঠ দিন এবং আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। [ইবনে মাজাহ:১০৮৪]

এজন্য ইসলামে জমার দিনকে একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন ধরা হয়। এই দিনটিতে আসরের পরে কোন বান্দা দোয়া করলে তার দোয়া কবুল হয়।  এটি মুমিন মুসলমানের জন্য খুবই মর্যাদা পূর্ণ।  হাদীসে এসেছে, ‘ সূর্য উদয় হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম।  এই দিনে আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই একই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং এই একই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। [মসুলিম-৮৫৪]

হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী  জুম্মার দিনের আসরের সময় দিন মুমিন মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়।  এই সময়টুকুতে মুমিনদের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু আমল করার সুযোগ, যা হাদিসে এসেছে। তাই আসরের নামাজের পর আমল হিসেবে দোয়া,  জিকির ও ইস্তেগফার ইত্যাদি করতে হবে।  এছাড়াও আরেকটি আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত রয়েছে।  সেটি হচ্ছে বিশেষ নিয়মে দুরুদ পাঠ করা। 

Read More  সুমাইয়া নামের অর্থ কি ? ‍Sumaiya নামের বাংলা, আরবি ও ইংরেজী অর্থ কি

জুম্মার দিনের আসরের নামাজের পর আমল

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত রয়েছে,  রাসুল সাঃ এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জুম্মার দিন আসরের নামাজ পড়ার পর নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরীফ পাঠ করবে ওই স্থানে বসা অবস্থায়, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায়  লেখা হবে।’ (আফদালুস সালাওয়াত -২৬)

দরুদ শরীফটি হচ্ছে-

আসরের পর কোন সময় দোয়া কবুল হয়?

হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাজিআল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন,  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  জুম্মার দিনে মোট 12 ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে,  এই সময়ে যদি কোন মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু  দোয়া করে,  তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে দান করেন।  এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।’ ( আবু দাউদ- ১০৪৮)

এখানে আসরের শেষ সময় বলতে বোঝানো হয়েছে সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে।  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু  বর্ণনা করেন,  শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়ে থাকে।  বিখ্যাত গ্রন্থে জাদুল মাআদে এসেছে, ‘ জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়’ 

সর্বশেষ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সম্পর্কে।  আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ তার প্রতিটি কাজ আমাদের জন্য সুন্নাহ  এবং নাজাতের মাধ্যম। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর নবীজির আমল সমূহ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা।  তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি উপকারে আসবে।  নবীজির দেখানো আমলসমূহ যেগুলো তিনি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর নিয়মিত আমল করতেন, সেগুলোই জানানো হয়েছে আজকের আর্টিকেলে। এমন ইসলামিক আর্টিকেল করতে ও জানতে বেশি বেশি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। 

Leave a Comment