বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয় কি – যেভাবে চালু করবেন

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় কি

বিকাশ একাউনট বন্ধ হলে করণীয় কি, তা অনেকে জানতে চান এবং অনেকে  এই সমস্যার মুখাপেক্ষী হোন। তাহলে সত্যিকার অর্থে কি করবেন, যখন আপনার একমাত্র মোবাইল ব্যাংকিং তথা বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যাবে? এরকম প্রশ্নের সমাধান ও তথ্য নিয়েই আজকের আমাদের এই গঠনমূলক বিকাশ সম্পর্কৃত আলোচনা।

বিকাশ হলো বাংলাদেশের মধ্যে থাকা সবচেয়ে ব্যস্ত ও গ্রাহক সংখ্যা বিশিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। যেসব ব্যক্তিদের ব্যাংক একাউন্ট নেই তাদের জন্য বিকাশ যেন আর্শিবাদ সরূপ। কেননা ব্যাংকিং এর নানা রকম জটিলতা সহ অন্য সকল কোনো রকম ঝামেলায় পড়তে হয় না। এছাড়াও রয়েছে বিকাশের আকর্ষণীয় সব অফার। সেই দিকগুলো বিবেচনা করলে বিকাশ হলো প্রতি জনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা টাকা লেনদেনের মাধ্যম। কিন্তু কি হবে, যদি হঠাৎ দেখেন আপনার বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গেছে? কি করবেন তখন? বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় কি আপনার? কিভাবে ফিরিয়ে আনবেন পুনরায় বন্ধ বিকাশ একাউন্টটি? ( বিকাশ একাউন্টের মালিকানা পরিবর্তনবিকাশের সুবিধা সম্পর্কে জানুন )

এরকম দ্ধিধাগ্রস্থায় ভোগা গ্রাহকদের জন্যই মূলত আজকের এই আর্টিকেলটি। এখানে আমরা শিখবো কেন আপনার চলমান বিকাশ একাউন্টটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ কি কি কারণে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়। আরো জনবো যদি বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক হিসেবে আমাদের করণীয় কি? কি করবো বিকাশ বিকাশ একাউন্টটি ফিরিয়ে আনতে বা পুনরায় সচল করতে। তাহলে চলুন, আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে জানা যাক, বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে এমতোবস্থায় আমাদের করণীয় কি এবং কিভাবে পুনরায় সেই চলমান একাউন্টটি ফিরিয়ে আনবো সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয়

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয়

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে সব গ্রাহকই তাৎক্ষণিক করণীয় কি তা জানতে চায়। কেননা দৈনন্দিন জীবনের খুঁটি-নাটি সকল ধরণের আর্থিক লেনদেন করতে আমরা এখন মোবাইল ব্যাংকিংগুলোর সহায়তা নিয়ে থাকি। বর্তমানে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর গ্রাহক সংখ্যা হলো ১০ কোটি ২৮ লাখ এর উপর। এবং দিন দিন এর সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংখ্যা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, মানুষের জীবনে ওতপ্রোতভাবে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং জড়িয়ে আছে।

আমাদের চলমান বিকাশ একাউন্ট কয়েকটি কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আজকের আর্টিকের সবগুলো নিয়ে আলোচনা করলে আর্টিকেল অনেক দীর্ঘায়িত হয়ে যাবে। যে বিধায় এখানে মাত্র ২ টি উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, যে উপায়ে আপনি বন্ধ হয়ে যাওয়া আপনার বিকাশ একাউন্টটি পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন। সে দুটি করণীয় হলো-

  • বিকাশ হেল্পলাইন নাম্বারে (16247) ফোন দিয়ে বন্ধ একাউন্ট চালু করা
  • বিকাশ হেল্পসেন্টার প্রতিনিধিদের নিকট গিয়ে বন্ধ একাউন্ট চালু করা
Read More  বিকাশ রিচার্জ অফার ২০২১ | bKash mobile research 2021

মূলত যখন আমাদের বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যাবে, তখন এই দুটি করণীয় ছাড়া আমাদের নিকট আর অন্য কোনো উপায় থাকে না। তাই উক্ত দুটো করণীয় এর মাধ্যমে কিভাবে আমরা আমাদের বিকাশ একাউন্টটি পুনরায় চালু করবো বা সচল করবো চলুন তাহলে সে করণীয়গুলো সম্পর্কে জানা যাক।

বিকাশ হেল্পলাইন নাম্বারে (16247) ফোন দিয়ে বন্ধ একাউন্ট চালু করা

যখন আপনার বিকাশ একাউন্ট টি বন্ধ হয়ে যাবে আর আপনি কোনো রকম উপায় বা করণীয় পাচ্ছেন না যে কিভাবে আপনার বিকাশ একাউন্টটি পুনরায় আবার সচল করবেন, তখন আপনি বিকাশ হেল্পলাইন নাম্বার তথা 16247 নাম্বারে ফোন দিয়ে বন্ধ একাউন্ট চালু করতে পারেন। আর এটাই হলো অন্যতম একটি উপায় এবং আপনার জন্য তৎক্ষণাৎ করণীয়। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় গুলো হলো-

  • আপনার বিকাশ একাউন্ট থাকা সিমটি দ্ধারা 16247 নাম্বারে কল করুণ।
  • কল করে তাদের কাস্টমার প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার জন্য সিলেক্ট করুণ।
  • যখন তাদের সাথে কথা বলার জন্য কানেক্ট হবে, তখন আপনি আপনার সমস্যার কথা তাদের নিকট বলুন। অর্থাৎ আপনার বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং আপনি তা পুনরায় সচল রাখতে চান।
  • তাঁরা আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবে এবং কিছু তথ্য চাইবে, সবগুলো প্রশ্নে উত্তর ও তথ্য সঠিক ভাবে দিতে পারলে আপনাকে তাঁরা বিকাশ একাউন্টটি ফিরিয়ে দিবে অর্থাৎ সচল করে দিবে।
  • বিকাশ কাস্টমার প্রতিনিধিরা আপনার কাছ থেকে যেসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবে সেগুলো হলো- আপনার নাম জানতে চাইবে অর্থাৎ বিকাশ একাউন্টের মালিকের সাথে আপনার নামে মিল রয়েছে কি-না তা সিউর হওয়ার জন্য, এরপর আপনার জন্মতারিখ, বাবার নাম অথবা মাতার নাম, গ্রাম ইত্যাদি এসব জানতে চাইবে। অর্থাৎ আপনিই যে এই বিকাশ একাউন্টের মালিক, সে সম্পর্কে তারা কনফার্ম হতে চায়। সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে এবার তাঁরা আপনার নিকট হতে কিছু তথ্য নিবে।
  • তাঁরা যেসকল তথ্য নিবে ( আপনার এনআইডি কার্ডের নাম্বার (NID Card Number), জন্ম তারিখ, সর্বশেষ লেনদেনকৃত অর্থের পরিমাণ সহ ইত্যাদি।
  • সবগুলো তথ্য দিতে সক্ষম হলে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের প্রতিনিধিরা মেসেজের মাধ্যমে পুনরায় আপনার বিকাশ একাউন্টটি আবার সচল করে দিবে।
  • ব্যাস, হয়ে গেল আপনার বিকাশ একাউন্ট সচল।

এভাবেই মূলত বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের ফোন নাম্বারে (16247) ফোন দিয়ে আপনার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিকাশ একাউন্টটি পুনরায় সচল করে আর্থিক লেনদেন আবার স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন। এবার চলুন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় নাম্বার ২য় এর সম্পর্কে জানা যাক।

Read More  রকেট অফার | ২০২১ এর সব অফারগুলো জেনে নিন | Rocket Offer

বিকাশ হেল্পসেন্টার প্রতিনিধিদের নিকট গিয়ে বন্ধ একাউন্ট চালু করা

এটি হলে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় নাম্বার ২য়। যখন বিকাশ একাউন্টটি কোনো রকম কারণ ছাড়াই বন্ধ হয়ে যাবে, তখন আপনি বিকাশ হেল্পসেন্টার প্রতিনিধিদের নিকট গিয়ে বন্ধ একাউন্ট চালু করতে পারবেন। এই উপায়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিকাশ একাউন্টটি ফিরিয়ে আনতে আপনাকে বেশ কিছু ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিস করতে হবে। তাহলে চলুন বিকাশ হেল্পসেন্টার প্রতিনিধেদের নিকট গিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিকাশ একাউন্টটি চালু করতে পারি সে সম্পর্কে জানা যাক।

  • প্রথমে যার নামে বিকাশ একাউন্ট তাঁকে নিয়ে আপনি আপনার নিকটস্থ যেকোনো একটি বিকাশ কাস্টমার হেল্পসেন্টারে চলে যান।
  • তাদের নিকট গিয়ে সমস্ত কিছু বর্ণনা করে বলুন।
  • কেন আপনার বিকাশ বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গেল এবং এই মূহর্তে করণীয় কি আপনার সে সম্পর্কে তাদের বলুন।
  • তারা আপনার বিকাশ একাউন্টের সমস্ত ডাটা দেখে আপনি অর্জিনাল বিকাশ একাউন্টের মালিক কি-না তা সম্পর্কে প্রথমে নিশ্চিত হবে।
  • তারা আপনার ছবির সাথে বিকাশে ইনপুট দেওয়া ছবির হুবহু মিল রয়েছে কি-না তা সম্পর্কে অবগত হবে।
  • যদি সমস্ত তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে, আপনি সঠিক বিকাশের মালিক এবং সে সম্পর্কে তাঁরা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে তাঁরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনার বিকাশ একাউন্ট পুনরায় চালু করে দিবে।

মূলত এটাই হলো আপনার ২য় করণীয় যখন আপনার বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যাবে। এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ উপায়। এখানে আপনি কোনো রকম ঝামেলা এবং বিরক্তকর বোধ করতে হবে না। শুধুমাত্র সবকিছুর তথ্য ঠিক থাকলে কোনো রকম হেনেস্তা ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি বন্ধ হয়ে যাওয়া বিকাশ একাউন্ট টি পুনরায় সচল করে আবার সকল ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

তাহলে আজকের আমরা জানলাম আমাদের বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গেলে কিভাবে আমরা সেই বিকাশ একাউন্টটি পুনরায় ফিরিয়ে আনবো এবং সেই ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় হিসেবে উপরোক্ত এই দুইটি উপায়ে আপনি আপনার বিকাশ একাউন্টটি চালু করতে পারেন।

এখন চলুন জানা যাক কি কি কারণে আমাদের বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়, সে সম্পর্কে জানা যাক। আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটিকে ফেস করতে হয়। তাই আজকের আর্টিকেলেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়ার কারণ

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়ার কারণ

তবে এর মধ্যে আমরা কিছু সমস্যাও ফেস করি। যেমন এর মধ্যে ‍উল্লেখযোগ্য হলো বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া। এখন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। সবগুলো কারণ কে আমরা সাধারণত ২টি ভাগে ভাগ করেছি। সেগুলো হলো-

  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • নিজ ইচ্ছায় বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া
Read More  নগদ একাউন্টের সুবিধা ২০২১

আজকের আর্টিকেলে আমরা এই বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই ২টি কারণ সম্পর্কেই জানবো। তার আগে চলুন জানা যাক, চলমান বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের করণীয় কি তা সম্পর্কে জানা যাক।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া

এটির অন্যতম একটি কারণ হলো বিকাশ সার্ভারে অথবা সাইটে নানা ধরনের ট্যাকনিকেল ক্রটির কারণে। সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো এটিই। এই ক্ষেত্রে কারো হাত নেই। তাই এর সমাধানে আপনাকে ১৬২৪৭ নাম্বারে কল করে তাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে অথবা অন্যথায় সরাসরি বিকাশ হেল্পসেন্টারে যোগযোগ করতে হবে। তাঁরা আপনার বিকাশ একাউন্টটিকে পুনরায় চালু করে দিবে।

নিজ ইচ্ছায় বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম অ্যাপ্লাই করে মৃত্যুবরণ করেছে। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো নিজ ইচ্ছায় বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া এবং পরোক্ষণে তা আবার চালু করতে চাওয়া। এই সমস্যাটি অনেকের মাঝে বিদ্যমান। যে বিধায় এই সমস্যাটির সমাধান করতে কিছুটা হেনেস্তা হতে হয়। তবে যদি আপনি আপনার নিকটস্থ কোনো বিকাশ হেল্প সেন্টারের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন, তাহলে তাঁরা পুনরায় আপনার বিকাশ একাউন্টটি চালু করে দিবে। অথবা আপনি নিজেই নতুন একটি বিকাশ একাউন্ট চালু করতে পারেন। এভাবেই যদি নিজ ইচ্ছায় বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে পুনরায় আবার ফিরিয়ে আনতে পারেন।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয় নিয়ে শেষ কথা

যেহেতু বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় কি তা নিয়েই আজকের সম্পূর্ণ পোস্টটি, তাই এখানে আলোচিত আজকের সমস্ত বিষয় নিয়েই ছিল উক্ত টপিকটি নিয়ে। আজকের আর্টিকেলে আমরা শিখেছি যে, যদি কোনো কারণে আমাদের বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি এবং কিভাবে আমরা পুনরায় বিকাশ একাউন্টটি উদ্ধার করে সচল করতে পারি। এছাড়াও শিখেছি যে, কেন আমাদের বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যায়া। এর কারণ গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ঠিক একই ভাবে যেহেতু বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করণীয় কি তা আমরা জেনেছি, তাই আশা করি আজকের আর্টিকেলটি দ্ধারা আমরা পাঠকরা বেশ ভালোভাবে উপকৃত হয়েছি।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয় সম্পর্কে আরো জানতে

Leave a Comment