সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয়

আজ আমরা আলোচনা করব সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয়? সেই সম্পর্কে। আপনি যদি সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এই সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার কাজে লাগবে অথবা আপনি পড়তে পারেন। সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয়, তার মধ্য পরীক্ষণীয় দিক গুলো হলো প্রাথমিক মেডিকেল, শারীরিক পরীক্ষা, চূড়ান্ত মেডিকেল, লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা। আজকের আর্টিকেলে আমরা সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এই সম্পর্কে জানতে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

আপনারা যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে তথ্য জানতে চান তাদের জন্য মূল জানার বিষয়টি থাকে যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় আপনারা যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্পর্কে কিছু জানেন না, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাঠে কি কি করা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয়। তবে আজকের আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কি পরীক্ষা করা হবে এই বিষয়ে জানানোর চেষ্টা করব এখন আমরা সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এই বিষয়গুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করব।

সেনাবাহিনীর প্রাথমিক মেডিকেল

সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর প্রথম ধাপ হল প্রাথমিক মেডিকেল। সেনাবাহিনীর শারীরিক যোগ্যতার সাথে পুলিশ এর শারীরিক যোগ্যতার অনেক তা মিল রয়েছে। কারণ ডিফেন্স এর প্রতিটা সেক্টরে শারীরিক যোগ্যতা অনেক নিখুঁত ভাবে দেখা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাঠে প্রবেশ করলে প্রথমে আপনাকে মাঠে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে বলা হবে এবং ওই সময় আপনার সাথে থাকতে হবে এসএমএস আসা ফোনটি, ১০০ টাকা এবং প্রয়োজনে সকল কাগজপত্র। এরপর আপনাদেরকে সিরিয়াল অনুযায়ী একটি রুমে নেয়া হবে। এ সময় আপনাদের গায়ে থাকবে একটি সাদা গেঞ্জি এবং হাফ প্যান্ট। সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর প্রাথমিক মেডিকেলে আপনাদের শরীরের প্রাইভেট পার্ট ব্যতীত বাকি সবকিছু খুঁটিনাটি দেখা হবে। যেমন- হাত, পা, চোখ, মুখ, নাক, গলা, কণ্ঠ, ওজন, উচ্চতা, হাঁটাচলা, দাঁড়ানো ইত্যাদি সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর প্রাথমিক মেডিকেলে এগুলো দেখা হবে।

সেনাবাহিনীর শারীরিক পরীক্ষা

সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর প্রাথমিক মেডিক্যালের পর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। যারা মেডিকেলে টিকে যাবে তাদেরকে সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর দ্বিতীয় পর্যায় শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য কিছু পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। যেমন- দৌড়, লাফ, পুশ আপ এবং সাঁতার প্রতিযোগিতা। শারীরিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় দেওয়া পাশাপাশি লং জাম্প থাকে, অনেক ক্ষেত্রে সাঁতারও দেওয়া হয়। শারীরিক পরীক্ষায় দৌড় এবং পুশ থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না। সেনাবাহিনীতে পরীক্ষা করা হয় এর প্রাথমিক মেডিকেল এবং শারীরিক পরীক্ষা দুইটা মিলে একটা নাম্বার দেয়া হবে। এই দুইটা নাম্বার যোগ করে যাদের নাম্বার বেশি হবে তাদেরকে পরবর্তী চূড়ান্ত মেডিকেলে পাঠানো হবে।

সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত মেডিকেল

সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত মেডিকেল

সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে চূড়ান্ত মেডিকেল।আপনাদের মনে রাখতে হবে চূড়ান্ত মেডিকেলে আপনার গায়ে জামা-কাপড় কিছুই থাকবে না সেখানে শুধু মেডিকেল টিম থাকবে। মেডিকেল টিম আপনার শরীরের সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।

সংক্ষিপ্ত ভাবে বোঝাতে গেলে বলা যায়, চূড়ান্ত মেডিকেলে যা হয় তা হলো প্রাথমিক মেডিকেলে যে বিষয়গুলো দেখা হয় না সেগুলো চূড়ান্ত মেডিকেলে দেখা হয়। আপনার প্রাইভেট অর্গান গুলোতে কোন সমস্যা রয়েছে কি না তা ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়। সেনাবাহিনি, বিজিবি, ও পুলিশের চাকরি তে এই বিষয় অনেক ভালো ভাবে চেক আপ করা হয়ে থাকে। যদি আপনি সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর চূড়ান্ত মেডিকেলে টিকে যান তাহলে আপনাকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

সেনাবাহিনীর লিখিত পরীক্ষা

সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে লিখিত পরীক্ষা। আপনারা হয়তোবা অনেকেই জানেন না, সেনাবাহিনীতে লিখিত পরীক্ষায় কি কি আসে বা কোথা থেকে আসে। আপনি সেনাবাহিনীর যে পদে আবেদন করবেন, সেই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যা চাওয়া হবে আপনাকে সেই অনুযায়ী পড়তে হবে। যেমন- আপনি যদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে আবেদন করতে চান তাহলে সৈনিক পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে এসএসসি পাস। তাই সেনাবাহিনীর লিখিত পরীক্ষায় এসএসসির অঙ্ক, বাংলা এবং ইংরেজি থেকে প্রশ্নগুলো এসে থাকে। সুতরাং, আপনি সেনাবাহিনীর যে পদে আবেদন করবেন সেটার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী পড়েন তাহলে আপনি সেনাবাহিনীর লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে পারবেন।

সেনাবাহিনীর মৌখিক পরীক্ষা

সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর পঞ্চম পর্যায়ে রয়েছে মৌখিক পরীক্ষা। সেনাবাহিনীর লিখিত পরীক্ষায় যারা টিকবে তাদেরকে পরবর্তীতে ভেরিফিকেশন করা হবে এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। সেনাবাহিনীর মৌখিক পরীক্ষায় আপনাদেরকে কিছু প্রশ্ন করা হবে এবং আপনারা যদি সেই সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাহলে আপনি মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন। অতএব, এই ছিল সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় তার বিস্তারিত তথ্য। আশা করি বিষয়টি সকলে বুঝতে পেরেছেন কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না।

এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করব কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীতে চাকরি হয় না ? সেই সম্পর্কে । আপনি যদি কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীতে চাকরি হয় না এই সম্পর্কে জানতে চান! তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার কাজে লাগবে অথবা আপনি পড়তে পারেন।

আপনি যদি সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করতে চান বা ইচ্ছে থাকে তাহলে আগে থেকেই আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে! সেনাবহিনীর চাকরি কে বলা হয় বর্তমান সময়ের সেরা জব। আপনি যদি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে সেনা বাহিনীতে চেষ্টা করুন! সেনাবাহিনীতে যোগদান করার আগে আপনাকে শারীরিক এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীতে চাকরি হয় না? এই সমস্যা গুলো নিয়ে ব্যাখ্যা করা হলো।

উচ্চতা এবং সে অনুযায়ী ওজনের পরিমাণ

উচ্চতা এবং সে অনুযায়ী ওজনের পরিমাণ
উচ্চতা এবং সে অনুযায়ী ওজনের পরিমাণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে একটা বিষয় খুব লক্ষণীয়! সেটা হল আপনার উচ্চতা অনুযায়ী যেন আপনার ওজন ঠিক থাকে! অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকের লম্বা ঠিক আছে কিন্তু ওজন সেই অনুযায়ী নেই। তাহলে আপনি সেনাবাহিনীর মাঠে নির্বাচিত হবেন না।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার উচ্চতা প্রয়োজন কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেখা গেল যে আপনার উচ্চতা ঠিকই আছে কিন্তু উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন ঠিক নেই। তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আপনার চাকরি হবে না। যদি আপনার উচ্চতা এবং ওজন ঠিক থাকে তাহলে আপনাকে সেনাবাহিনীর পরবর্তী স্টেপে নিয়ে যাওয়া হবে।

কাটা দাগ

সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর অন্যতম একটি লক্ষণীয় দিক হলো শরীরের কোন জায়গায় কাটা দাগ! আপনার শরীরে যদি কাটা দাগ থাকে তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি হবে না।

আবার আপনার মাথায় যদি বড় কিংবা গভীর কোন দাগ থাকে তাহলে আপনাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় অযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।মাথায় কাটা দাগ ছাড়া আর একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো আপনার মাথায় টাক পড়া! যদি আপনার মাথায় টাক পড়ে যায় তাহলে আপনি বাদ হয়ে যাবেন।

দাঁত এবং চোখের সমস্যা

দাঁত এবং চোখের সমস্যা সেনাবাহিনীতে চাকরি না হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে আপনার জন্য! আপনাকে যখন সেনাবাহিনীর মেডিকেল টেস্ট করা হবে তখন সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সুতরাং, যদি আপনার চোখে কোনোপ্রকার সমস্যা থাকে অর্থাৎ আপনি চোখে কম দেখেন অথবা চোখে ঝাপসা দেখেন তাহলে আপনি সেনাবাহিনীর জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এছাড়া ও আপনার দাঁতে যদি কোন প্রকার সমস্যা থাকে অথবা একেবারেই দাঁত না থাকে তাহলে আপনি সেনাবাহিনীর জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।

চর্মরোগ

সেনাবাহিনীতে যখন আপনাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে, তখন শুরুতেই আপনার শরীরে কোন প্রকার ঘা, ছুলি চুলকানি, কুষ্ঠ রোগ অথবা অন্য যেকোনো ধরনের সমস্যা চোখে পড়ে! তাহলে সেটা আপনার জন্য সেনাবাহিনীতে অযোগ্য হওয়ার কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত ধূমপান করা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি না হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো অতিরিক্ত ধূমপান করা! যারা ধূমপান করে তাদের বুকের মাপ ৩০ হলে প্রসারিত অবস্থায় ৩২ হয়! কিন্তু প্রতিনিয়ত যারা ধূমপান করে তাদের প্রিপারেশনটা বাড়তি পাচ্ছেন সেটা বাড়বে না ।

হাত ঘামা

সেনাবাহিনীতে চাকরি না হওয়ার আরেকটি কারণ হলো অতিরিক্ত হাত ঘামা! আমাদের মধ্যে অনেকেরই হাত ঘামে কিন্তু এমন অনেক লোক আছে যাদের অনেক বেশি হাত ঘামে! মূলত এটি একটি রোগ যার কারণে আপনি সেনাবাহিনী থেকে বাদ পড়তে পারেন।

এমন অনেক লোক আছে যারা লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার সময়, নিজের হাতের অতিরিক্ত ঘামের কারণে পরীক্ষার খাতা ভিজিয়ে ফেলে! তাই আপনার যদি এরকম কোনো অসুখ থাকে তাহলে সেটা দ্রুত ভালো করার চেষ্টা করুন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে সেনাবাহিনীতে কি কি পরীক্ষা করা হয় এর জন্য কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না এই বিষয়ে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এখানে আমি যে সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি এগুলো ছাড়াও অনেকের আরো অনেক সমস্যা থাকতে পারে। সেই সমস্যা বা রোগ গুলো সুস্থ করে সেনাবাহিনীর মাঠে যাবেন।

সেনাবাহিনীতে কত পয়েন্ট লাগবে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাধারণ (জিডি) পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে এসএসসি বা সম্মানের পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ- ৩.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে! এবং প্রার্থীর বয়স ২০২৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে মধ্য সর্বনিম্ন ১৭ বছরের এবং সর্বচ্চ ২০ বছরের বেশি গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কারিগরি পদে আবেদনের জন্য এসএসসি ভোকেশনাল থেকে সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে কমপক্ষে জিপিএ- ৩.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে! এসএসসি বা সমমান পাস হলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড করতে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্রেড করছে ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ থাকতে হবে ।

সেনাবাহিনীতে মেয়েদের উচ্চতা কত লাগে?

সেনাবাহিনীতে মেয়েদের উচ্চতা কত লাগে

সেনাবাহিনী এবং পুলিশে মেয়েদের যোগ্যতার মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে! বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন কমপক্ষে ৪৭ কেজি! বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় 28 ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি হতে হবে! তবে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ৫ ফুট ১ ইঞ্চি।

Leave a Comment