অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট – সম্পূর্ণ গাইডলাইন

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট – Payment Method শব্দটি পড়েই বোঝা যাচ্ছে এমন কোনো ধরনের কাজ, যা বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে তথা বিকাশ ব্যবহার করে টাকা নেওয়া সম্ভব। তাহলে কি সে কাজ? কোন ধরনের কাজ? অনলাইন ভিত্তিক এমন হাজার হাজার রিমোট কাজ রয়েছে যা বর্তমানে পাওয়া যেমন সম্ভব ঠিক একই ভাবে কাজ সম্পন্ন করে সাবমিটের মাধ্যমে বিকাশে পেমেন্ট নেওয়াও সম্ভব। এখানে হাজার হাজার কাজ যদিও না হয় তবে ডিমান্ড ভিত্তিতে অনেক কাজ রয়েছে যার উপযোগী মার্কেটার বা ফ্রিল্যান্সার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক অনেক কম রয়েছে। তাই সে ক্ষেত্রে আপনিও যদি সেই কাজগুলোর উপার স্কিল ডেভোলাপ করে কাজে নেমে পড়েন, তাহলে আশা করা যায় খুব অল্প সময়ে আপনিও এসব ফিল্ডে অনলাইনে কাজ করে টাকা আয় করতে পারবেন এবং বিকাশে সেই পেমেন্ট নিতে পারবেন।

পূর্বে বাংলাদেশে পেমেট গেটওয়ের তেমন সুবিধা ছিল না বিধায় অনেকে রিমোট কাজকে অবয়েড করতো কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গুলো সে সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশের অনেকগুলো ফ্রিল্যান্সিং সাইট রয়েছে, যেখানে আপনি লেখালেখি অথবা অন্য সকল স্কিলের উপর কাজ করে  টাকা আয় করতে পারেন। মূলত এখানে উল্লেখ্য যে, সবগুলো কাজই হলো অনলাইন ভিত্তিক। তাই আপনি যদি এসব বাংলাদেশি সাইট কিংবা বাংলাদেশি পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে আপনার অনলাইন কাজের পেমেন্ট নিতে চান, তাহলে নিম্নোক্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রহিল।

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট গেটওয়ে- payment gateway by bKash

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট গেটওয়ে

মূলত অনলাইনে আয় online income বলতে আমরা কি বুঝি? কিভাবে অনলাইনে আয় করে? এর সম্পর্কে আপনার বিন্দুমাত্র ধারণা রয়েছে? যদি এসব প্রশ্নের উত্তরগুলো হয় “না” তাহলে অনলাইনের আয় সম্পর্কিত তথ্য জানতে পুরো পোস্টটি পড়তে পারেন।

যেহেতু বাংলাদেশের চাকুরির Bangladesh Job বাজারে প্রায় ধ্বস নেমেছে, তাই শিক্ষিত বেকাররা অ্যাভেইল-অ্যাভেইল থাকা অনেকগুলো কাজ করতে ইতোস্থবোধ করে থাকে। সেসব ক্ষেত্রে তাঁরা অনলাইনের কাজের জন্য তাদের স্কিল ডেভোলাফ করতে হয়। তাহলে তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি সকল দেশের অনলাইন ভিত্তিক কাজগুলো করে টাকা আয় করতে পারে এবং অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে টাকা আয় করে আপনি আপনার মোবাইল ব্যাংকিং তথা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারে। তবে সবগুলো সাইটের মাধ্যমে ইনকাম করা সম্ভব কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আজকে আমরা এমন কিছু অনলাইন আয় করার সাইট নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলোতে আয় করার পর আমরা বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারবো। তাহলে চলুন, অনলাইনে কাজ করে বিকাশে পেমেন্ট bKash Payment নেওয়া যায় এমন সেই সব কাজ ও সাইটের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক। তার আগে চলুন কি কি বিষয় ও সাইট নিয়ে আলোচনা হবে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত চেক লিস্ট দেখা যাক।

  • জে আইটি
  • চয়েজ বার্ড
Read More  নতুন বিকাশ একাউন্ট অফার ২০২১ | নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলুন

মূলত এই দুটি বিশ্বস্ত অনলাইন ভিত্তিক ইনকাম সাইট নিয়েই আলোচনা করবো যেগুলো থেকে আপনি সহজেই বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারবেন। তাহলে চলুন জানা যাক-

জে আইটি – jit bd

জে আইটি হলো মূলত বাংলাদেশি একটি অনলাইন আয় করার সাইট। এখানে আপনি সহ লেখালেখিতে অভিজ্ঞ সবাই লেখালেখি করে হিউজ পরিমাণ টাকা আয় করতে পারে। আপনি যদি বাংলা ভাষায় অনেক দক্ষ হয়ে থাকেন, এবং লেখালেখি করতে খুব স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকেন,তাহলে উক্ত সেক্টরটি আপনার জন্যই। এখানে আপনি ডেলি অনেক টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। তাদের ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্ডিশন সহ অন্য সকল রুলস মান্য করে আপনি আপনার লেখা জমা দিতে হবে। আর এতে করে তাঁরা আপনাকে আপনার লেখার মান ও কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে পেমেন্ট দিবে। সেটি আপনি বিকাশেও পেমেন্ট নিতে পারেন। এটিকে আপনি কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে ধরে নিতে পারেন।

একজন দক্ষ ও স্বাভাবিক কন্টেন্ট রাইটার যেমন লেখালেখি করে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারে ঠিক একইভাবে আপনিও সেই কাজটি করতে পারেন জে আইটি তে। তবে আপনার পেমেন্টের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে আপনার লেখার গুণগত মানের উপার ডিপেন্ড করে। তাই লেখায় তারতম্য নিয়ে আসতে পারলে আপনিও আপনার আয়ের পরিমাণকে কিছুটা হলেও বোস্ট করতে পারবেন। তাহলে এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কিভাবে আপনি সেখানে কাজ করবেন অথবা এর নিয়ম-কানুনগুলো কি? যদিও তাদের নিজস্ব সাইটে এর সব বর্ণনা রয়েছে, তারপরও পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে স্টেপ বাই স্টেপ সংক্ষিপ্তে একটি চেক লিস্টের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

জে আইটি থেকে আয় করে যেভাবে বিকাশে পেমেন্ট নিবেন

  • আপনি যদি কোনো একটি বিশেষ নিশের প্রতি অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি ঐ নিশের উপর আর্টিকেলে লিখতে পারেন এবং তাদের নিকট সাবমিট করতে পারেন। আপনার লেখা এবং কোয়ালিটির উপার ডিপেন্ড করে কর্তৃপক্ষ আপনাকে ২০ টাকা হতে শুরু করে ২০০ টাকা অবধি দিতে পারে। আর এই টাকার পেমেন্ট আপনি বিকাশে নিতে পারেন।
  • এছাড়াও আপনি আপনার লেখাকৃত সেই ফাইলটি/লেখাকে বিভিন্ন সামাজিক সাইটে পাবলিশ করতে পারেন, এতে করে যত বেশি ভিজিটর আপনার লেখাটি পড়বে, আপনি ততো বেশি আয় করতে পারবেন। এবং সেই আয়কৃত টাকা বিকাশে পেয়ে যাবেন।
  • অন্যদিকে, আপনি যদি রেফারেল লিংক নিয়ে সেটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে থাকেন, তাহলে সেসব শেয়ারকৃত লিংক হতেও আপনি টাকা আয় করতে পারেন। আর যদি কেউ আপনার রেফারেল লিংক ধরে জয়েন করে তাহলে আপনি আরো বেশি টাকা পেতে পারেন।
  • অন্যদিকে এখানে আপনি আরো ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করতে পারেন। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের টাস্ক। যে টাস্কগুলোকে আপনি পূরণ করে অনেক টাকা আয় করে বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারেন।
  • এছাড়াও রয়েছে আরেকটি অফার, সেটি হলো আপনি যদি কারো রেফারেল লিংকের মাধ্যমে জয়েন করেন,তাহলে আপনিও সাথে সাথে পেয়ে যাবেন বোনাস টাকা যা আপনি বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারেন।
Read More  বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

মূলত এই ছিল জে আইটি থেকে টাকা আয় করার কয়েকটি পদ্ধতি এবং সেই টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়ার উপায়। আশা করি উপরোক্ত পার্টের লেখাটি পড়ে বেশ ভালোভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং আজ থেকেও আপনি জে আইটি থেকে উল্লেখিত রেফারেল লিংক দ্ধারা জয়েন করে টাকা আয় করবেন এবং বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট নিবেন।

চয়েজ বার্ড – Choice bird

চয়েজ বার্ড – choicebird হলো একটি ই-কমার্স e-commerce organization প্রতিষ্ঠান। এখানে আপনি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট এর ন্যায় অ্যাফিলিয়েট করে অনেক অনেক টাকা আয় করতে পারেন। তবে এই ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু কাজ করতে হবে। চয়েজ বার্ডে আপনি কয়েকভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। এখন আপনি যদি না জেনে থাকেন যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি বা কিভাবে কাজ করতে হয়, তাহলে আমাদের পূর্ববর্তী পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন। এখন মজার বিষয় হলো চয়েজ বার্ড যদিও মাল্টি দেশের জন্য একটি ইকমার্স একটি সাইট, কিন্তু এটি বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং তথা বিকাশ মোবাইলে ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারেন। তবে এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, কিভাবে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন ? মূলত আপনি কযেকভাবে চয়েজ বার্ডে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং Affiliate Marketing করে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারেন। যেমন-

  • ফেসবুকের মাধ্যমে
  • ইনস্ট্রাগ্রাম এর মাধ্যমে
  • ওয়েবসাইটের মাধ্যমে

উপরোক্ত মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে আপনিও চয়েজবার্ডে অনলাইনে টাকা আয় করে টাকা আয় করতে পারেন এবং সে টাকা পেমেন্ট হিসেবে বিকাশে টাকা নিতে পারেন। এখন কিভাবে আপনি চয়েজ বার্ড নামক ই-কমার্সের মাধ্যমে টাকা আয় করে বিকাশে পেমেন্ট নিবেন?

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: প্রথমে আপনাকে সুনির্দিষ্ট একটি নিশ সিলেক্ট করে সেই নিশ মোতাবেক একটি ওয়েবসাইট তৈরি make your website করতে হবে। এবং ক্রমন্বয়ে সেই সাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করে যেতে হবে। যখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রাফিক আপনার সাইটে আসবে তখন আপনি চয়েজ বার্ডে একাউন্ট তৈরি করে সেখান থেকে প্রোডাক্টের অ্যাফিলিয়েট লিংক নিয়ে আপনার সাইটে বসাবেন। এতে করে যখন কোনো কাস্টমার বা ভিজিটর আপনার সাইট হয়ে চযেজ বার্ডে যাবে এবং কোনো একটি প্রোডাক্ট ক্রয় করবে, ঠিক তখন আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করতে পারবেন।

ইনস্ট্রাগ্রাম (instagram) এর মাধ্যমে: এই ক্ষেত্রে আপনি একটি নিশ অনুযায়ী প্রোফাইল খোলতে হবে এবং আপনার ফলোয়ার সংখ্যা ১ হাজার ক্রস করতে হবে। তখন আপনি চয়েজ বার্ড এ অ্যাপ্লাই করতে পারেন। এরপর আপনাকে অপ্রোভ করলে উপরের ন্যায় প্রোডাক্ট সেল করতে পারলে আপনি টাকা আয় করতে পারেন এবং সেই টাকা বিকাশে পেতে পারেন। তাদের পেমেন্ট গেটওয়ের মধ্যে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিংও রয়েছে।

Read More  ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাই | কিভাবে শিখবেন আউটসোর্সিং

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট নেওয়ার উপায় – Way to payment by bKash

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট নেওয়ার উপায়

আমরা যখন অনলাইনে কাজ করবো এবং কাজ করে আয় করা সেই টাকা বিকাশে নিতে চাইবো, তখন আমাদের পূর্ব থেকেই জেনে রাখতে হবে যে, সেই সাইটে আধোও বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে সাপোর্ট করে কি-না। যদি কোনো রকম বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে সাপোর্ট করে না থাকে, তাহলে প্রথমেই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় সর্বশেষ আমাদের পেমেন্ট নেওয়ার জন্য অন্য সকল উপায়কে অনুসরণ করতে হবে।

এখানে যেসকল ওয়েবসাইটগুলোকে উল্লেখ করেছি, মোটামোটি সবগুলোই হলো বিকাশ সাপোর্টার পেমেন্ট গেটওয়ে। আপনি এই সব সাইটে টাকা আয় করতে পারবেন এবং সেই টাকা জমিয়ে অনেক করতে পারেন। তবে যখন আপনি আবার সেই টাকাগুলো উথড্রো করতে চান, তখন আপনি বিকাশের মাধ্যমে টাকা উঠাতে পারবেন।

তাই যদি আপনি অনলাইনে কাজ করে আয়কৃত টাকা বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে তথা বিকাশকে ব্যবহার করতে চান, তাহলে সে সকল সাইটে কাজ করার পূর্বে তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশনগুলো ভালোভাবে বোঝে নিবেন। তাহলে প্রথম থেকেই আপনি সে সকল বিষয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট নিয়ে শেষ কথা – Last word about payment method by bKash

যেহেতু আজকের সম্পূর্ণ আর্টিকেলের মূল বিষয়বস্তু হলো অনলাইনে আয় করে সেই টাকা কিভাবে আমরা বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারি সে সম্পর্কে, সেহেতু আমাদের আলোচনার ক্ষেত্র বিন্দু কিন্তু সেটাই ছিল। তাই যদি কেউ এমন ব্যক্তি থেকে থাকেন যে, পেমেন্ট নিয়ে ট্যানশন ফিল হয় অর্থাৎ কিভাবে আপনার কষ্টে অর্জিত সে টাকা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করে নিয়ে আসবেন, তাদের জন্য প্রথমে আমি আর্টিকেলে বলেছি সে বিষয়ে। আপনাকে অবশ্যই সে সকল সাইটে কাজ শুরু করার পূর্বে এ সকল সাইটের পেমেন্ট গেটওয়ে সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ফেলতে হবে। যেমন আজকের আর্টিকেলে আমরা মোট ২টি সাইটের নাম উল্লেখ করেছি। এরকম আরো অনেক সাইট রয়েছে, যেখানে আপনি অনলাইনে আয় করা টাকা আপনি বিকাশে নিয়ে আসতে পারবেন। তবে এখানে উল্লেখিত এই দুটি সাইট হলো বিশ্বস্ত, যে বিধায় আজকের আর্টিকেলে সাইট দুটিকে উল্লেখ করা। তাই আশা করি যদি আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই বোঝতে পেরেছেন যে, কিভাবে আপনি অনলাইনে আয় করে বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারবেন।

অনলাইনে আয় বিকাশে পেমেন্ট সম্পর্কে আরো জানতে

Leave a Comment