নারীদের আবেদনময়ী বিজ্ঞাপন সম্মান নাকি ফাঁদ?

নারীদের আবেদনময়ী বিজ্ঞাপন সম্মান নাকি ফাঁদ?

ইসলাম হলো আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা। সতীত্ব সুরক্ষায় জারি করেছেন পর্দার বিধান। নারী-পুরুষের চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার রক্ষাকবচ হলো পর্দা। ইসলাম অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীদের মর্যাদা দিয়েছে বেশি। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত ঘোষণা করে নারীকে সম্মানের চূড়ান্ত আসনে বসিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত,

নবী করীম (সা.) বলেছেন, 'কোন ব্যক্তির ঘরে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে যেন তাকে জাহেলিয়াতের যুগের ন্যায় জীবিত কবর না দেয় এবং তাকে তুচ্ছ মনে না করে, আর পুত্র সন্তানকে উক্ত কন্যা সন্তানের উপর প্রাধান্য না দেয় তাহলে আল্লাহ তাকে বেহেশত দান করবেন।' (আবু দাউদ)।
ইসলাম নারী সমাজের জন্য কষ্টিপাথরের ন্যায়। ইসলাম আগমনের পূর্বে নারীদের প্রকাশ্যেভাবে নির্যাতন ও ভোগ করত। কিন্তু আধুনিক যুগে সুকৌশলে নারীদের অর্ধনগ্ন বিজ্ঞাপন করার মাধ্যমে, আঁটসাঁট পোশাকে ইভেন্ট করা, কর্পোরেট হাউজে শো-পিস করে ভোগ করার সংস্কৃতি তৈরি করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।' -(আল-বায়ান সূরা নূর আয়াত : ১৯)।

নারী স্বাধীনতার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসছে তারা। এক্ষেত্রে নারী সমাজও ক্ষুধার্ত মাছের মতো ধরা দিচ্ছে পশ্চিমা সভ্যতার ফাঁদে। কিন্তু পশ্চিমারা কি আসলেই নারীদের মুক্তি চায়? নাকি মুখে মধু অন্তরে বিষ! পশ্চিমা সভ্যতার পুরুষদের মানসিকতা কতটা ভোগবাদী তা কি নারী সমাজ বিন্দুমাত্র আচ করতে পেরেছে? পশ্চিমা সভ্যতায় নারী হলো ভোগ্যপণ্য। বিজ্ঞাপনে কথাই যদি চিন্তা করি তবে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হবে।

নারীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। টিভি বিজ্ঞাপন, পত্রিকা বিজ্ঞাপন, তথ্য ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ অনলাইন বিজ্ঞাপনের মহামারি। সামান্য আচার, জুস, সাবান, সিম বিক্রি, কোল্ড ড্রিংক গাড়ির বিজ্ঞাপন নারী ছাড়া চলে না বিজ্ঞাপন দাতাদের। এতে করে কি নারীদের তুচ্ছ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে না? সুন্দরী নারীদের আকর্ষণীয় করে বিলবোর্ডে লাগিয়ে দিচ্ছে পাঁচসাত কিছু না ভেবে। পণ্যের দিকে ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য নারীদের দেহ প্রদর্শন করেছে পশ্চিমার তথা কথিত সভ্য সভ্যতা। পশ্চিমাদের সস্তা শ্লোগানে বশিভূত হয়ে আজ অসম্মানের পথে নারী সমাজ মুক্তির স্বপ্ন দেখে। কর্পোরেট হাউজে শো-পিস হওয়া নারীদের খবর কেউ নিয়েছে?

আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর মুমিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে।' ( আল-বায়ান সূরা নূর আয়াত : ৩১)।

যৌন লালসায় উন্মাদ পুরুষরা নারীদের বাণিজ্যিকীকরণ করেছে তারা। দিনরাত্রি উম্মুক্ত প্রদর্শনী বিজ্ঞাপন ও ইভেন্টের নামে নারীদের দেহসর্বস্ব ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে। মনোকষ্ট নিয়ে বলতে হয়, তবুও নারী সমাজ সব কিছু সম্মান হিসেবে গ্রহণ করছে। পুরুষের বিকৃত মস্তিষ্ক সব সময় চায় নারীর দেহ উপভোগের পরিবেশ তৈরি করতে। আর বিজ্ঞাপন সংস্কৃতি হলো তার অন্যতম মাধ্যম।

 আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।' -(আল-বায়ান সূরা বনী ইসরাইল আয়াত : ৩২)

পুরুষের ব্যবহারের পণ্যের বিজ্ঞাপনে অর্ধনগ্ন নারী। গ্রাহকরা পণ্যের চেয়ে নারীর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। এতো সব কিছু দেখেও বিবেক নাড়া দেয় না?আল্লাহ তায়ালা বলেন,

Read More  সাহাবীদের নাম এর তালিকা | পুরুষ সাহাবীদের নাম জানুন

গর্ভবস্থায় মায়েদের সঠিক খাদ্যতালিকা

মেয়েদের মেহেদীর ডিজাইনগুলো দেখুন

 'আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না- তা থেকে যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে।' (আল-বায়ান সূরা আন'আম আয়াত : ১৫১)।

ইসলাম নারীকে সর্বস্তরে সম্মান দিয়েছেন। কন্যা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে। গৃহকর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। সন্তান জন্মদান ও লালনপালন জন্য দিয়েছেন জিহাদের মতো মর্যাদা।

ইসলামী সমাজে নারীর মর্যাদার ভিত্তি হচ্ছে তাকওয়া বা আল্লাহভীরুতা। রাসূল (সা.) বলেছেন,

'এই পৃথিবী এবং এর মধ্যস্থিত সমস্ত কিছুই মূল্যবান। কিন্তু সবচাইতে মূল্যবান হচ্ছে একজন সৎকর্মশীল নারী।' (মুসলিম)।

পুঁজিবাদী সমাজে নারীর মর্যাদা হচ্ছে দেহের সৌন্দর্যের উপর ভিত্তি করে। তারা বিয়েকে মনে করে পশ্চাৎপদ চিন্তা। মাতৃত্ব ও গৃহকর্মকে করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য। হে আল্লাহ, নারীরা যেন তাদের মর্যাদা সম্পর্কে বুঝতে পারে। এবং নারীদের ইসলামের সুমহান আদর্শে জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন।

ধন্যবাদ মাসুম আলভী

Leave a Comment