রিজিক বৃদ্ধির আমল | টাকা-পয়সা, রিযিক, ধন-সম্পদ দ্বিগুণ করার বিষ্ময়কর ঘটনা ও আমল।

রিজিক বৃদ্ধির আমল

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া কিংবা রিজিক বৃদ্ধির আমল লিখে আমরা অনেক মুসলিম ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে থাকি। রুজি-রোজগার, টাকা-পয়সা, রিযিক, ধন-সম্পদ দ্ধিগুণ করতে কে না চায়। আমরা সবাই চাই তার পরিশ্রমের ইনকামে কিছুটা বরকত ও রহমত আসুক। পূর্বের চেয়ে আরো রিজিক বৃদ্ধি হোক। সুখ-শান্তি, ধন-সম্পদ ক্রমান্বয়ে বাড়ুক। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে যেমন হেদায়াত দান করেন, ঠিক একইভাবে অন্য সব কিছুর ন্যায় রিজিকও বৃদ্ধি করে থাকেন।

একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলাই পারেন আমাদেরকে সুখ-দুঃখ দিতে এবং সকল ধরনের অভাব অনাটন থেকে মুক্ত রাখতে। আর এসব তিনি করে থাকেন রিজিক বৃদ্ধির মাধ্যমে। ( আরো জানুন ইসলামি কিছু কার্যকারী ছোট ছোট দোয়াসফলতার দোয়া সম্পর্কে )

রিজিক বৃদ্ধি হলো এমন একটা জিনিস যা সংসারে সুখ ও শান্তি নিয়ে আসার মাধ্যমে একজনের জীবনকে গড়ে তুলে সুখময়। আর এর জন্য প্রত্যেকের উচিত মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা। যাতে তিনি আমাদের দুঃখ ও কষ্ট লাঘব করে সুখ ও শান্তি দিয়ে ফুরিয়ে দেয়। সর্বক্ষেত্রে সফলতা দেয়। ইসলামে সফলতা পাওয়ার আমল রয়েছে। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের মানুষদের সৃষ্টি করেছেন । তিনিই আমাদের ভালো সম্পর্কে বেশি অবগত। তাই তিনি পবিত্র কোরআনে বহু আয়াতে রিজিক বৃদ্ধির জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। কিভাবে একজন মুমিন ব্যক্তি তাঁর রিজিক বৃদ্ধি করবে দোয়া ও আমলের মাধ্যমে।

সে সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। তাহলে চলুন আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে জানা যাক রিজিক, টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ, ধন-সম্পদ বাড়ানোর আমল সম্পর্কে। ( স্বামীকে যে কথাটি বললে একজন স্ত্রী দোযখী হবে এবং স্বামীর অনুমতি ছাড়া ৭টি আমল করতে পারবে না একজন স্ত্রী )

রিজিক বৃদ্ধি করার আমল

রিজিক বৃদ্ধি করার আমল

সাধারণত রিজিক বৃদ্ধি করতে পারা যায় দুই ভাবে। আর এই আপনি যদি বৃদ্ধি করতে চান, তাহলে এই দুইটি উপায় আপনাকে অবলম্বন করতে হবে। সেগুলো হলো-

  • রিজিক বৃদ্ধির আমলের মাধ্যমে
  • অন্যটি হলো রিজিক বৃদ্ধির দোয়ার মাধ্যমে

এখানে উল্লেখিত এই দুটিকে একসাথে করতে পারলে ইনশাআল্লাহ যে কারো রিজিক বৃদ্ধি পাবে। আলোচনার সুবিধার্থে চলুন প্রথমে জানা যাক রিজিক বৃদ্ধির আমলগুলো সম্পর্কে এবং ক্রমান্বয়ে এর পরের আর্টিকেলে জানবো রিজিক বৃদ্ধির দোয়াগুলো সম্পর্কে। রিজিক বৃদ্ধির আমলগুলো হলো-

রিজিক বৃদ্ধি করার আমলগুলো হলো-

পবিত্র কোরআনের বহু জায়গায় মহান আল্লাহ তা’আলা রিজিক বৃদ্ধির জন্য নানা রকম আমলের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এছাড়াও নবীজির হাদিসগুলোতেও একইভাবে রিজিক বৃদ্ধির আমল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাহলে চলুন সংক্ষিপ্তে সে সম্পর্কে জানা যাক-

Read More  বাড়ির নারিদের হাত খরচ দিচ্ছেন তো ?

তাকওয়া অবলম্বণ করা

তাকওয়া হলো আল্লাহ কে ভয় পাওয়া। আল্লাহর নির্দেশগুলো সঠিকভাবে মান্য করা। নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করা ও তা থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ইবাদাত করা। পাশাপাশি আল্লাহ তা’আলার উপর সবকিছুতে অটল থাকা। কোনো কিছুতে হতাশ না হয়ে তার উপর তওয়াক্কুল করা। আল্লাহ উপর রিজিকের ভরসা করা সহ ইত্যাদি। কেননা মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,

‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সূরা তালাক : আয়াত ২-৩)

তাওবা ও ইস্তেগফার পাঠ করা

অধিক পরিমাণে আল্লাহ তা’আলার নিকট ক্ষমা চাওয়া। প্রতিনিয়ত তাওবা করা এবং একইসাথে বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া। এসব কিছুর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের রিজিক বৃদ্ধি করে দেয়। আর তারই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেন,

‘আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল।’ (তার কাছে ক্ষমা চাইলে) ‘তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আর তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগবাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’। (সূরা নূহ : আয়াত ১০-১২)

নবীজির (স) ওপর দরুদ পড়া

যদি কোনো উম্মত প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সা: এর উপর বেশি বেশি দরুদ পড়ে থাকে, তাহলে তাঁরও রিজিক বৃদ্ধি পাবে। আর এই ব্যাপারে তোফায়েল ইবন উবাই ইবন কাব (রা) থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার প্রতি অধিক হারে দরুদ পড়তে চাই, অতএব আমার দোয়ার মধ্যে আপনার দরুদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। কাব বলেন, আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ। তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, অর্ধেক? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কাব বলেন, আমি বললাম, তা হলে দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দোয়ার পুরোটা জুড়েই শুধু আপনার দরুদ রাখব। তিনি বললেন, তা হলে তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (তিরমিজি : ২৬৪৫)

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা

বর্তমানে আমাদের সমাজে কেউ আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় ব্যয় করতে চায় না। একটি হোটেলে কিংবা কোথায়ও গেলে হাজার টাকা ব্যয় করলেও আল্লাহকে খুশি করতে সংকোচ বোধ করে থাকে। আর যে কারণে ধীরে ধীরে মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের রিজিক কমিয়ে দেয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, রিজিক বৃদ্ধি করতে বেশি বেশি আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় ব্যয় করতে হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

‘বল, নিশ্চয় আমার রব তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া

আমাদের সমাজে যেসকল দূর্বলরা রয়েছে তাদের প্রতি আমাদেরকে আরো সদয় হতে হবে। অন্যথায় মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের রিজিক কমিয়ে দিবে। তাদের সাথে কোনো রকম কটু কথা কিংবা ধমকের সুরে কথা বলা যাবে না। তাদের সাথে সর্বদা সদয় আচরণ করতে হবে। রাসূল সা: এই ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে বলেন,

‘তোমাদের মধ্যে থাকা দুর্বলদের কারণে কেবল তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক প্রদান করা হয়।’ (বুখারি : ২৮৯৬)

আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা

আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একজন মুমিনকে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করতে হবে। এতে করে তাঁর রিজিক বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

‘আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে জমিনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তার রাসুলের উদ্দেশ্যে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তার পর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তা হলে তার প্রতিদান আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০০)

আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা

আমরা মানুষেরা খুবেই অকৃতজ্ঞ। কিছু কম হলেই আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ি। কারো থেকে প্রতিনিয়ত উপকার পেলেও কোনো এক সময় তাঁর একটু ক্রটি হলেই তাঁর প্রতি আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ি। ঠিক একাইভাবে আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করার পরও আমরা একটু কম পেলেই শুকরিয়া আদায় করি না। এই ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলেন,

‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আজাব বড় কঠিন।’ (সূরা ইবরাহিম : আয়াত ০৭)

অভাবেও আল্লাহমুখী হওয়া

সুখ ও দুঃখে আল্লাহর নিকট হতে মুখ পিরিয়ে নেওয়া যাবে না। বরং তখন আরো আল্লাহ মুখী হতে হবে। আর তখন আল্লাহ তা’আলা এই আমলের মাধ্যমে বান্দার রিজিক আরো বৃদ্ধি করে দিবে। তখন আল্লাহ তা’আলাকে বেশি বেশি ডাকতে হবে। যাতে আল্লাহ সাড়া দিয়ে আমাদের অভাব দূর করে দেয়। এই ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেন,

‘আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।’ (সূরা মুমিন : আয়াত ৬০)

উপরোক্ত বিষয়টি হলো রিজিক বৃদ্ধির আমল নিয়ে। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী আর্টিকেলটি হবে রিজিক বৃদ্ধির দোয়াগুলো নিয়ে। আজকের আর্টিকেলটি আর বড়ো করা ঠিক হবে না। অন্যথায় পাঠকগণ বিরক্তবোধ করবে। সুতরাং রিজিক বৃদ্ধির আমলগুলোর সাথে যদি রিজিক বৃদ্ধির দোয়া সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে পরবর্তী পোস্টটি অনুসরণ করুন।

Read More  নুসাইবা নামের অর্থ কি - Nusaiba নামের বাংলা, আরবি ও ইংরেজী অর্থ

রিজিক বৃদ্ধির আমল নিয়ে শেষ কথা

উপরের সমস্ত আলোচনাটি হলে রিজিক বৃদ্ধির আমল নিয়ে। ইনশাআল্লাহ, এর পরবর্তী আর্টিকেলটিতে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি রিজিক বৃদ্ধির দোয়াগুলোকে নিয়ে। তাই আপনি যদি সে সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে পরবর্তী আর্টিকেলটিকে অনুসরণ করতে পারেন। যাইহোক, এখন আমরা জানি ইসলামি ধর্মীয় মোতাবেক, একজন মুমিন ব্যক্তি যদি তাঁর ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করতে চায় এবং তাঁর সার্বিক রিজিকে বরকত আনতে চায়, তাহলে তাকে কোনো কোন আমলগুলো খুব সতর্কতার সাথে করতে হবে।

তবে উক্ত আমলগুলো অবশ্যই শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলাকে খুশি করার জন্যই করতে হবে। যদি কেউ মানুষ দেখিয়ে উক্ত আমলগুলো করে থাকে, তাহলে সে তাঁর রিজিক বৃদ্ধিতে ব্যর্থ হবে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, একজন ব্যক্তির রিজিক বৃদ্ধির আমল সম্পর্কে তার পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা উচিত। আশা করি আজকের আর্টিকেল তথা রিজিক বৃদ্ধির আমল সম্পর্কে জেনে পাঠকগণ বেশ ভালোভাবে উপকৃত হতে পারবে।

রিজিক বৃদ্ধির আমল সম্পর্কে আরো জানতে

Leave a Comment