স্বামীর অনুমতি ছাড়া একজন নারী ৭টি আমল করতে পারবেনা

স্বামীর অনুমতি ছাড়া একজন নারী ৭টি আমল করতে পারবেনা

স্বামীর অনুমতি ছাড়া একজন নারী ৭টি আমল করতে পারবেনা অন্যথায় সে সকল ধরনের বৈধ কার্যক্রম করতে পারবে। একজন স্বামী ও স্ত্রীকে আল্লাহ তা’আলা জোড়া হিসেবে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। তাদের জীবনকে রহমত হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের সম্পর্ক অপরিহার্য। এই পবিত্র সম্পর্কের মাধ্যমে তাঁরা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য আমল করবে। আর এটাই আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ। ( আরো জানুন স্বামীকে স্ত্রী যে কথাটি বললে জাহান্নামী হয়ে যাবে এবং সফলতার জন্য কার্যকারী দোয়া সম্পর্কে )

ইসলাম ধর্মে একজন নারীকে আল্লাহ তা’আলা হযরত মোহাম্মদ সা: এর মাধ্যমে বিশেষ মর্যদা দান করেছেন। কিভাবে? প্রথমে সে তারঁ পিতার নিকট থাকে এবং এরপর তাঁর স্বামী ও সর্বশেষ তাঁর সন্তান। এভাবে তাকে সবাই বহন করে। তবে স্বামী হলো নারীর জন্য অমূল্য জিনিস যা আল্লাহ প্রদত্ত রহমত সরূপ। আর যে কারণে মহান আল্লাহ তা’আলা নারীদেরকে স্বামীর অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। ইসলামিক নিয়মের মধ্যে স্বামী যা চাইবে, স্ত্রী তা পালন করতে বাধ্য থাকিবে। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামীকে অবশ্যই সেই দিকটিকে বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় উল্টো হবে। ইসলামে বেশ কিছু জিনিস একজন স্ত্রীর জন্য সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। আর সে যদি তাঁর স্বামী বারণ করে কিংবা নিষেধ করে, তাহলে সে এগুলো করতে পারবে না। এখন যদিও সেগুলো হয় আমল কিংবা ইবাদাত। তাহলে সে আমলগুলো কি? চলুন জানা যাক। ( মেয়েদের সুন্দর সুন্দর নাম পড়ুন )

স্বামীর অনুমতি ছাড়া নারী যে ৭টি আমল করতে পারবে না

স্বামীর অনুমতি ছাড়া নারী যে ৭টি আমল করতে পারবে না

স্বাভাবিকভাবে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তৈরি বা সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদাত করার জন্য। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে যদি তাঁর স্বামী নিষেধ করে, তাহলে তাঁর জন্য ঐ ইবাদাত বা আমলগুলো করা বৈধ নয়। তাহলে কি সেই আমলগুলো চলুন জানা যাক-

নফল রোজা রাখতে পারবে না

প্রথম যে আমলটির নাম আসে, তা হলো একজন বাধ্যগত স্ত্রী তাঁর স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত কোনো ধরনের নফল রোজা থাকতে পারবে না। যদিও রোজা হলো একটি সোওয়াবের কাজ। তবে এই ক্ষেত্রে যদি স্বামী অন্য কোনো যুক্তিগত কারণে নিষেধ করে, তাহলে সেই স্ত্রীর জন্য নফল রোজা রাখা বৈধ নয়। যদি সেই নারী সাওয়াব পাওয়ার আশায় স্বামীর নিষেধ অমান্য করে নফল রোজা রাখে, তাহলে সে কোনো রকম সাওয়াব পাবে না। তবে যদি তাঁর স্বামী অনুমিত দেয়, তাহলে সে পরিপূর্ণ সাওয়াব পাবে। তাই সত্যিকার অর্থে কোনো নারীর উচিত নয় যে, স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোনো রকম নফল রোজা না রাখা।

Read More  নবীদের নামের তালিকা | আদম আ: থেকে মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত নবীদের নাম

ওমরা হজ্জ্ব করতে পারবে না

যদি কোনো স্ত্রী তাঁর স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় এবং স্বামীর অজান্তেই ওমরা হজ্জ্ব করে ফেলে, তাহলে তাঁর সেই হজ্জ্ব আল্লাহ তা’আলা কবুল করবে না। কেননা এটি ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। স্বামীর অনুমতি ব্যতিত কোনো স্ত্রী ওমরা হজ্জ করতে পারবে না।

কোরআন তিলওয়াত করতে পারবে না

পবিত্র কোরআন তিলওয়াত করা অবশ্যই একটি পূণ্যের কাজ। তবে যদি কোনো স্বামী তাৎক্ষণিকভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে নিষেধ করে থাকে, তাহলে স্ত্রীর জন্য সে সময়ে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। পরোক্ষণে পুনরায় আবার তিলওয়াত করতে পারবে। তাই স্বামীর সামনে স্বামীর অনুমতি ব্যতিত কোরআন তিলওয়াত করা যাবে না।

নফল নামাজ পড়া যাবে না

ঠিক নফল রোজার ন্যায় নফল নামাজও পড়া যাবে না। আপনি যদি একজন নামাজী হয়ে থাকেন, কিন্তু আপনার স্বামী এই মূহর্তে চাচ্ছে না যে, আপনি নফল ইবাদাত বা নামাজ পড়ুন, তাহলে তৎক্ষণাৎ আপনার উচিত নফল ইবাদাত পড়া বন্ধ করা। কেননা স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত কোনো স্ত্রীর নফল নামাজ আল্লাহ তা’আলা কবুল করবে না। তাই এই দিকটিকে উভয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

স্ত্রী তাঁর মা-বাবার বাড়িতে যেতে পারবে না

একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত কোনোভাবেই বাপের বাড়িতে যেতে পারবে না। এমনিতে সে তাঁর স্বামীকে নিয়ে কিংবা স্বামীর অনুমতি নিয়ে সব জায়গায় যেতে পারবে কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সে স্বামীর হুকুম ছাড়া মার সাথেও দেখা করতে পারবে না।

নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না

পবিত্র ধর্ম ইসলামে নারীদেরকে সর্বদা আবৃত্ত করে থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যদি নারী তা না করে খোলা-মেলা থাকে, তাহলে সে নারী নিয়ম ভঙ্গ করার সামিল কাজ করেছে। যে কারণে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। (সুরা আহযাবঃ ৩৩) এই আয়াতের তাফসীরে ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, নারী স্বামী গৃহেই অবস্থান করবে। যেহেতু স্বামীর আনুগত্য করা নারীর জন্য ওয়াজিব তাই তার গৃহ থেকে তার অনুমতি বেতিরেকে বাইরে যাওয়া জায়েয নয়। (তাফসির ইবেন কাছিরঃ ৩/৭৬৮)

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে, যদি কোনো নারীকে তাঁর স্বামী নিষেধ করে কোনো জায়গায় যেতে কিন্তু নিষেধ অমান্য করে সে ;নারী সেই জায়গায় যায়, তাহলে তাঁর দ্ধারা আল্লাহ তা’আলা অসন্তুষ্ট হোন। আর যদি তাঁর স্বামী তাকে কোনো একটি নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার অনুমতি দেয়, তাহলে তা জায়েজ হবে। অন্যথায় সে গুণাহ করবে।

Read More  এ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম বাংলা অর্থসহ

স্বামীর টাকা পয়সা খরচ করা

এমনিতে বলে অথবা জানিয়ে একজন জ্ঞানী স্ত্রী তাঁর স্বামীর টাকা পয়সা খরচ করতে পারে। কিন্তু যদি সে না বলে অথবা স্বামীর অজ্ঞানে তাঁর পকেট থেকে কিংবা তার মানিব্যাগ হতে গোপনে টাকা রেখে দেয় অথবা দান করে দেয়, তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁর গুনাহ হবে।

হজরত আবু উমামা বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, কোনো মহিলা নিজের স্বামীর ঘর থেকে তার অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু ব্যয় ও খরচ করবে না- এমনকি খাবারজাতীয় জিনিসও। তবে বিষয়টি যে একবারে নিষিদ্ধ এমন নয়, বরং স্বামীর মৌন সমর্থন থাকলে তা করা যেতে পারে। যদি স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী অল্প কিছু দান-সদকা করেন এবং পরবর্তীতে স্বামী তা জেনে মৌন সমর্থন অবলম্বন করেন- তাহলে ধরে নিতে হবে এতে তার পক্ষ থেকে অনুমতি রয়েছে। এ রকম দান-সদকা বৈধ। এতে ভালো কাজের কারণে স্ত্রী সওয়াব পাবেন। আর স্বামীও তার সম্পদের অংশবিশেষ দান করার কারণে সওয়াব পাবেন। তথ্যসূত্র: বুখারি শরিফ, হাদিস নং-১৪৪০, আবু দাউদ শরিফ, হাদিস নং-৩৫৭৫, কিতাবুল ফাতাওয়া খণ্ড-৩ পৃষ্ঠা-৩৪০।

উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সকল পুরুষের জানা উচিত,  যে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে না এবং স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে তার সম্পর্কে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।

স্বামী ও স্ত্রী একে অফরের পোষাক সরূপ। তাঁরা তাদের সম্পর্ক বৈধতার মাধ্যমে টিকিয়ে রাখবে আর আল্লাহ থেকে তাদের উপর রহমত বর্ষণ হবে। আর সেই জন্যই নবী করীম সা: অনেক হাদিসে স্বামী ও স্ত্রীর আমল নিয়েও কথা বলেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তার কোনো নামাজ কবুল হয় না, কোনো নেক আমল ওপরে উঠানো হয় না; যতক্ষণ স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হবে।’ (ইবনে হিব্বান)

সার্বিকভাবে যদি লক্ষ্য করি, তাহলে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, আমাদের স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা থাকা অত্যন্ত জরুরী। আর বিশেষ করে স্ত্রীকে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত সব রকমের কাজ করা থেকে বিরত থাকিতে হবে। অন্যথায় আল্লাহ তা’আলা অসন্তুষ্ট থাকিবে।

Read More  নারীদের আবেদনময়ী বিজ্ঞাপন সম্মান নাকি ফাঁদ?

স্বামীর অনুমতি ছাড়া আমল সম্পর্কে শেষ কথা

মূলত পুরো আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করেছি এমন কিছু আমল নিয়ে যেগুলোকে একটি টাইটেল তৈরি করেছি আর যার নাম হলো স্বামীর অনুমতি ছাড়া একজন নারী ৭টি আমল করতে পারবেনা। উপরের এই ৭টি আমল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আশা করি আজকের পাঠকগণ বিশেষ করে নারীরা উপরোক্ত এই সকল বিষয়গুলোকে মাথায় নিয়ে জীবন সুন্দর করে তুলবেন। এতে করে আপনার উপর মহান আল্লাহ তা’আলা প্রচুর পরিমাণ সন্তুষ্ট হবে এবং আপনাদের সংসারে রহমত ও সুখ বর্ষিত হবে। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামীকেও কিছুটা সহজ হতে হবে। স্ত্রীদেরকে কোনোভাবেই কষ্ট দিতে পারবে না। সুতরাং সার্বিকভাবে বললে আজকের আর্টিকেলটি দ্ধারা পাঠকগণ উপকৃত হতে পারবে।

স্বামীর অনুমতি ছাড়া একজন নারী ৭টি আমল করতে পারবেনা সম্পর্কে আরো জানতে

Leave a Comment